Sunday, February 6, 2022
Thursday, May 6, 2021
অমানিবক মানবতা #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
এই প্রথম সোহেলের মনে হলো তার দাদু আসলে ঠিক কথাই বলেন| ধান থাকলেই যেমন খৈ
ভাজা যায় না তেমনই গাদা গাদা বই থাকলেই জ্ঞান অর্জন করা যায় না| এতদিন গবেষণা করে লোকটা
যে সমস্যার পাহাড় গড়ে তুলেছিলো তাতে তার কোনো লাভ হয় নি| অন্য লোকের সমস্যারও কোনো
সমাধান হয়নি| উল্টো সমস্যার সমুদ্রে পড়ে হাবুডুবু খেয়ে প্রাণটাই তার বের হওয়ার উপক্রম
হয়েছিল| দাদুই তাকে সে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করলেন|
— ব্রাভো দাদু, ব্রাভো|
মনে মনে বলে উঠলো সোহেল| তারপরই বন্ধুর কাছে বিদায় নিয়ে দাদু ফিরে চললেন সোহেলকে
নিয়ে| ফেরার পথে আবারো সেই পুলটি নজরে পড়লো সোহেলের| রাত হয়ে গেছে| এখন আর সেখানে কেউ
লাফালাফি করছে না| তবু সোহেলের অন্তরটা আনচান করে ওঠে| আগের সেই স্মৃতিটাই মস্তিষ্কের
পর্দায় ভেসে ওঠে| যেনো স্বর্গীয় একটা দৃশ্য| বায়ের দিকে তাকিয়েই সোহেল দেখতে পায়
আরও একটা মায়াবী দৃশ্য| বিস্তৃীর্ণ ধান ক্ষেতের কিনারা ঘেষে দাড়িয়ে থাকা সারিসারি গাছের
মাথার উপর একথালা পূর্ণিমা চাঁদ| সে সৌন্দর্যে আভিভূত হয়ে যায় সোহেল| মহান আল্লাহর
প্রতি কৃতজ্ঞতায় বিগলিত হয় তার মনটা| নিজের অজান্তেই সে বলে ওঠে,
— সত্যিই খুব সুন্দর একটা পৃথিবী গড়েছো তুমি| তোমার প্রশংসা|
Monday, September 7, 2020
সাজদা- #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
আবারো পালিয়ে যায় ইবলিস শয়তান| নামাজ আর সাজদাকে ভীষণ ভয় করে সে| বিশেষ করে জগা ফকীরের এই সাজদা দেখে তার মনটা বিষিয়ে যেতে থাকে| গত কাল অবধি যে অন্তরটা আগাছাতে ভর্তি ছিলো সেটাই কিনা আল্লাহর স্বরণের নুরে আলোকিত হয়ে গেলো! দুঃখ আর অপমানে মনটা কেঁদে উঠলো তার| দূরে গিয়ে মাটিতে বসে হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলো সে| কাঁদতে কাঁদতে মুঠো ভর্তি মাটি নিয়ে নিজের মাথাতেই ফেলতে লগলো বারংবার| আর বলতে লাগলো,
— হায় হায়! জগার মতো লোক| সাজদা করে জান্নাত পেয়ে গেলো আর আমি আদমকে সাজদা না করে হতভাগা হয়ে গেলাম| কি ক্ষতি আমার হলো|
Tuesday, July 21, 2020
রাজ দুলালী মাখলো ধুলী (জান্নাতি দুনিয়ার অসম প্রেমের উপন্যাস) #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
পিতার কথা শুনে খুশির পুলকে মনটা ভরে যায় শাহাজাদীর| মধুকে দেওয়াটা ওয়াদাটা
তবে সহজেই পুরা করতে পারলো সে| ততক্ষণে সৈন্যরা মধুকে শাহাজাদার পোশাকে সাজিয়ে
দরবারে হাজির করলো| তার দিকে দৃষ্টি দিয়েই মাথা নত হয়ে গেলো শাহাজাদীর| পোশাক আশাক
বা ধন সম্পদ ছাড়াই কেবল ব্যক্ত্বিত্ব আর মহত্বের গুণের তার কাছে হার মেনেছে সে|
রাখালের পোশাকেই মধুকে আকাশের চাঁদই মনে হয়েছে
তার কাছে| এখন তার শূণ্যস্থানগুলো পূরণ হয়ে এতটাই পরিপূর্ণ মানুষ মনে হচ্ছে
যে নিজেকেই তার যোগ্য মনে হচ্ছে না কোনো ক্রমে| মনে হচ্ছে দয়া সে তাকে ভালবাসার
মানুষ হিসেবে গ্রহণ করলেই সে ধন্য হয়|
যথা সময়ে ঢাকঢোল পিটিয়েই শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয় দুজনের| প্রাসাদেই হয় বাসরের
রাত| একে একে ফলে যায় জ্যোস্নবরণ অনুষ্ঠানের সেই গানটির সবগুলো লাইন| সম্পূর্ণ হয়
অসমাপ্ত লাইনগুলোও| যেগুলো সেদিন শোনা হয়নি| এভাবে শাহী প্রাসাদের মেহমান হয়েই জীব
পার করত লাগলো তারা|
Monday, July 20, 2020
জান্নাতী দুনিয়ার অসম প্রেম (ইসলামী উপন্যাস) #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
রুপকথার গল্পগুলো
শেষ হয় রুপকথারই মধ্যে। বলা হয়, তারপর তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো। আর মজিদের
কাহিনীগুলোর শেষ তার বাস্তব জীবনে। রুপকথার নায়িকাদের নিয়ে সে তার বাস্তব জীবনেই সুখে
শান্তিতে বসবাস করছে। জটিল ব্যাপারই বটে ! একেবারে বোধের অগম্য। কিন্তু মহান আল্লাহ
বলেন, তোমার রবের অসাধ্য কিছুই নেই {ফাতির/44}
Sunday, June 21, 2020
Saturday, June 20, 2020
তাওবা (নাস্তিকতা ও আস্তিকতা) #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
কথাটা
শেষ হতেই দু’জনে জড়াজড়ি করে হাসতে থাকে। তখনই দুজনের মাঝে একটা পার্থক্য খুজে পায় রিয়াদ।
এক জনের দাঁত লাল আর অন্য জনের দাত লালচে। মানে একজন পান বেশি খায় তাই তার দাঁত পুরাই
লাল আর অন্য জন কম খায় তাই তার দাঁত প্রায় লাল। হটাৎ রিয়াদের চিন্তা ভিন্ন দিকে মোড়
নেয়। আতিম মানে যাকে মুক্ত করা হয়। আজ তার নামের সাথে কাজটা খুব মিলেছে। নাস্তিকতার
ভয়াল থাবা থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন শেষ বিচারের দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেলেই স্বার্থকতা।
কথাটা ভেবে কেনো জানি উদাসীন হয়ে ওঠে রিয়াদের মনটা।
বিবিজান হুজুরের হারানো বিদ্যা- ইসলামী উপন্যাস #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
তারপর থেমে মিয়া
বাড়িতে বউ-শ্বাশুড়ি সুখে শান্তিতেই বসবাস করতে লাগল। সমাজের লোকজন অবশ্য বিনা টিকিটে
যাত্রাপালা না পেয়ে কিছুটা নাখোশ হয়েছিলো। আর সই ঠিকঠাক ছিলো।
নাস্তিকতার অসারতা- গল্পের মাধ্যমে নাস্তিকতার অসারতার প্রমাণ #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
আল্লাহকে
মানার জন্য তার অবদানই যথেষ্ট। তিনি কোথা থেকে আসলেন কিভাবে আসলেন এ ধরণের প্রশ্ন করা
আমাদের জন্য শোভা পায় না। কারণ প্রথমত আমাদের জ্ঞান অতি অল্প, আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা
করে কোনো সমাধানে পৌছানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত আল্লাহর ইবাদত করার জন্য
আমাদের উপর তার অবদান সম্পর্কে জানাটাই যথেষ্ট তিনি কিভাবে বা কোথেকে আসলেন এ বিষয়ে
জানার কোনো প্রয়োজন নেই।
এজন্য
রাসুল্লাহ (সাঃ) বলেন,
{তোমরা
আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করো আল্লাহকে নিয়ে চিন্তা করো না} (জামিউল আহাদীস)
সান্টু মামার স্কুল- ইসলামী কিশোর উপন্যাস #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
গ্রামের
এই উন্নতি দেখে রানার বাবাও খুব খুশি হলেন। তিনি প্রায়ই রানার মায়ের সাথে ছোট মামার
প্রশংসা করেন। একদিন রাতে মামা রানার বাবার সাথে কথা বলতে বলতে বললেন, আমার তো এবার
চলে যাওয়া দরকার।
কথা
শুনে বাবা খুব চেতে গেলেন। রাগান্বিত স্বরে বললেন- তুমি চলে গেলে এসব ছেলেরা আবার স্কুলে
যাবে। স্কুলের স্যারেরা তাদের খারাপ শিক্ষায় শিক্ষিত করবে। তারা বড় হয়ে শেখ আবু রায়হানের
মতো হতে পারবে না। তারচেয়ে বরং তুমি এ গ্রামেই থেকে যাও। প্রাইমারি স্কুলের নিকটে
রাস্তার পাশে আমাদের যে জমিটি আছে ওখানে আমি একটা ঘর বানিয়ে দিবো ওখানে তুমি এসব ছেলেদের
পড়াবে।
ছোটনের রোজী আপু- ইসলামী কিশোর উপন্যাস #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
আপু
মিঞা বাড়ির বউ হয়নি তাতে কি ? আমার আপু জান্নাতি হয়েছে। আমার আপু যা চেয়েছে তা পেয়ে
গেছে। আমাদেরও জান্নাত পেতে হবে। তাহলে আপুর সাথে দেখা হবে। আপু তুমি দেখে নিও তোমার
ছোটন তোমার দেখানো পথেই টিকে থাকবে। তোমার সাথে দেখা করবেই করবে। ছোটন মনে মনে বলে
কথা গুলো। কাউকে শোনায় না। এসব কথা কেউ বুঝবেই না। ওর মত করে কেউ চেনে না রোজি আপুকে।
এভাবেই কত স্মৃতি, কত কথা পিছনে ফেলে চলে যায় ছোটনের রোজি আপু।
পরিবর্তন (নিজের জীবন ও সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প) #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
সবাই
খুব মনযোগ দিয়ে শুনছে মুজাফ্ফর হুজুরের কথা। নিশ্চয় তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা
বলছেন। তিনি আর দশজন ইমামের মত নন। তিনি ইসলামকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসেন। তিনি এই যুবকদের
এক মহান কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন। একদিন তার কর্মসূচী অবশ্যই বাস্তবায়ীত হবে।
হয়তো তিনি তখন থাকবেন না। কিন্তু এ কাজ শুরু করার কারণে তার সুফল কবর থেকেই ভোগ করতে
থাকবেন। তিনি এটাই চান।
Friday, June 19, 2020
মৃত্যুদুত (মৃত্যুর ভয়াবহতা ও মৃত্যুর পরের জীবন) #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
কুরানিক চশমা- ইসলামী উপন্যাস #শায়েখ আব্দুল্লাহ আল-মুনীর#
সজিব
মনে মনে হাসে। সে জানে মামার সম্পূর্ণ কথাটা
সত্য নয়। তিনি চশমাটি বাক্সে ভরবেন, তালাও হয়তো মারবেন কিন্তু গভীর জঙ্গলে পুতে রেখে
আসবেন না। আশেপাশে কোনো গভীর জঙ্গলই নেই। হয়ত তার ল্যাবরেটরীতেই কোথাও রেখে দেবেন।
হয়তো কোনো প্রয়োজনে আবারো তিনি চশমাটি বের করবেন। কয়েকজন ভন্ড লোকের প্রকৃত রুপ প্রকাশ
করে দেবেন। যাই হোক, সজিব এখন আর এসব বিষয়ে আগ্রহ বোধ করে না। চিড়িয়াখানায় যে চাকুরী
করে বন্য পশু দেখতে তার আনন্দ লাগে না। যেখানে প্রতিটি মানুষই পশু সেখানে মানুষের প্রকৃত
রুপ বের করে আলাদা তৃপ্তি পাওয়ার সুযোগ কোথায় ?